বাস ড্রাইভারের ভয়ংকর ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|

--------বিশ্বাস করা না করাটা আপনার ব্যাপার----

ঘটনাটি আমাদের পাঠিয়েছেন,

নামঃ শফিকুল ইসলাম।

ঠিকানাঃ কুষ্টিয়া । 

আমাদেরকে যেভাবে পাঠানো হয়েছে ঠিক সেইভাবে প্রকাশ করা হলো। ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

আজকের ঘটনাটি  " মাইক্রো বাস ড্রাইভার  " কে নিয়ে,,,আশা করি সবার ভালো লাগবে।
সময় নষ্ট না করে ঘটনায়  যাওয়া যাক।

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


আমার নাম শফিকুল ইসলাম। আমি পেশায় একজন মাইক্রো বাস ড্র‍াইভার। আমার বাসা কুষ্টিয়া জেলার উজান গ্রামে। আজ আপনাদের সাথে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা শেয়ার করব। কথা না বাড়িয়ে  সরাসরি ঘটনায় চলে যাই। ঘটনাটি ২০১৪  সালের, আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিক করলাম আমরা ঘুরতে যাব। ঘুরতে যাওয়ার জন্য মন স্থির করলাম। আমরা মোট ৭ জন বন্ধু হলাম। আমরা যখন গিয়েছিলাম তখন মাঘ এবং ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি, খুব শীতও নয় গরমও নয়। ঘুরতে যাওয়ার একদম পারফেক্ট একটা সময়। 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


আর এই সময়ে মানুষ বেশি ঘুরতে যায়। যথারীতি আমরা সবাই উজান গ্রাম বাজারে এসে এক সাথে হলাম। আমরা  যখন গাড়িতে উঠলাম তখন ঠিক বাজে সাড়ে ৭ঃ৩০ টার মতো। আমি গাড়ি স্টার্ট করলাম, আমরা যখন কুষ্টিয়া পৌঁছালাম  তখন বাজে ৮ টা কি ৯ টার মতো। গাড়িতে তেল কম ছিল তাই আমি কুষ্টিয়ার একটা ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়িতে তেল লোড করলাম। তেল নেওয়ার পরে আমরা সবাই শহরের ভিতরে আসলাম। কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে একটা হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে চলতে শুরু করলাম। তখন ঠিক সাড়ে ১০ টার মতো বেজে গেছে। তো আমরা নাটোর পৌঁছালাম! বলে রাখা দরকার কুষ্টিয়া থেকে নাটোর পৌঁছাতে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো। 

বাস ড্রাইভারের ভয়ংকর ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|


ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


আমরা যখন নাটোর পৌঁছালাম তখন আনুমানিক ১২ টা কি ১টা বেজে যায়। যাই হোক নাটোর শহর থেকে কিছু দূর যেতেই একটা খোলা মাঠ পরে যা ৩ থেকে  ৪ কিলো হবে। আমরা যখন মাঠের মাঝখানে তখন হঠাৎ গাড়িটি বন্ধ হয়ে যায়। আমি রাস্তার এক পাশে গাড়িটি সাইড করি। তখন গাড়ির ভিতরে সবাই ঘুমাচ্ছিল,শুধু আমি  ড্রাইভিং সিটের পাশে   বসা বন্ধুটি বাধে। আমি বাকিদের ডেকে তুললাম ওরা উঠলো। আমি গাড়িটি ঠিক করার চেষ্টা করলাম কিন্তু ঠিক হচ্ছে না  কারণ একটা নাট খোলার রেঞ্জ আমার কাছে ছিল না তাই আমি রাস্তার উপরে দাঁড়ালাম অন্য কোনো গাড়ি আসলে   সাহায্য  নেব। কিন্তু গাড়ি আসলেও ঠামায় না কারণ মাঠ, আমাদেরও ভয় লাগতে থাকল। যাই হোক থুল বক্স ঘাটতে ঘাটতে রেঞ্জটি পেলাম। গাড়ি ঠিক হল, তো আমরা আবার রওনা হলাম। আমার গাড়ির স্পিড ৪০ এর মতো।  ঠিক হঠাৎ  আমার গাড়ির স্পিড একা একাই অর্থাৎ নিজে নিজেই বাড়তে লাগল কিন্তু আমি স্পিড বাড়াচ্ছি না।  মনে করলাম হয়তো ঘুম চলে এসেছে তাই পিকাপে চাপ পড়ছে, তাই স্পিড কমানোর চেষ্টা করলাম! 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


আমি এক্সিলারেটর থেকে পা সরে নিলাম কিন্তু কি আর্চয স্পিড কমে না বরং বাড়ছে, আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পিছনের সিটের ওরা বলছে এটো জোরে গাড়ি চালাচ্ছিস কেন? আমি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলাম কিন্তু হঠাৎ আমার চোখ পড়ল ডান পাশের গ্লাসের দিকে।  গ্লাসে আমি দেখলাম  আমার গাড়ির পিছনে সাদা কি যেন একটা বসে আছে। আমি একটু ভয় পেলাম, যাইহোক  কোনরকম ভাবে আমি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করলাম এবং ঠামালাম। আমি গাড়ি থেকে নামলাম কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না, ওরা বলল গাড়ি থামালি কেন? আমি ওদের সব বললাম। ওরা বলল রাত জেগে গাড়ি চালাচ্ছিস এর জন্য চোখে ভুল দেখেছিস। আমরা আবার যথারীতি চলতে শুরু করলাম! 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


কিছুক্ষণ পর জোরে একটা ঝাঁকি  অনুভব করলাম। মনে হল পিছন থেকে আরেকটা গাড়ি এসে ধাক্কা দিল কিন্তু পিছনে কোন গাড়ি নেই। এবার সবাই ঝাঁকিতা অনুভব করলাম, হঠাৎ জোরে বাতাস বইতে লাগল কিন্তু আকাশে কোন মেঘ ছিল না হঠাৎ সামনে দেখি রাস্তার মাঝখানে একটা লাশ পরে আছে দেখে মনে হলো এই মাএ এক্সিডেন্ট হয়েছে।  আমার পাশে, সাথে যারা আছে সবাই দেখল এবং আমি গাড়ি থামালাম এবং নেমে দেখলাম কিছু নেই।

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


গাড়িতে থাকতে দেখা গেল লাশটি কে কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে  আর কিছু  দেখা গেল না।  যাই হোক আমি গাড়িতে উঠলাম আর ওই সময় আমি যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।   আমি দেখলাম গাড়ির চাকার নিচে সেই লাশটি কিন্তু মাথা নেই এবং গাড়ির চাকার সাথে মিশে আছে।  আমি চিৎকার দিলাম। আমার চিৎকার শুনে বাকিরা নেমে এলো এবং তারাও সেই একি ঘটনা দেখে। যাইহোক দোয়া দুরদ যাই পারি তাই চোখ বন্ধ করে পরতে লাগলাম এবং চোখ খুলে দেখলাম কিছু নেই। আমরা তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে উঠে আবার চলতে লাগলাম এবং আমাদের গন্তব্যে পৌঁছালাম কিন্তু সেই রাতের ব্যাখা আজও পাচ্ছি না। এই ছিল আমার ঘটনা।

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


ভালো লাগলে সবার সাথে শেয়ার করবেন। অর্থাৎ আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন তারা যখন গাড়িতে বসে দেখল তখন দেখল একটা লাশ এক্সিডেন্ট হয়েছে কিন্তু নামার পরে দেখল কিছু নেই। কিছুক্ষণ পরে তারা সবাই মিলে দেখল যে গাড়িটির নিচে একটা লাশ রয়েছে যার মাথা নেই।  এবং সেই লাশটি লেপ্টে আছে চাকার সাথে এরকম  কিছু একটা। কিছুক্ষণ পরে তারা যখন বুঝতে পারল কোনো কিছু একটা ভুল হচ্ছে তখন তারা দোয়া দুরদ পড়ে যখন আবারও থাকাল দেখল কিছু নেই। মানুষের জীবনে কত অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে পারে তার কোন শেষ নেই। 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা

বাস ড্রাইভারের ভয়ংকর ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|


এই ছিল আমার সাথে ঘটে যাওয়া  ভুতের গল্প সত্য ঘটনা। ঘটনাটি ভালো লাগলে Bhoot Club এর সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। 

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


আপনি চাইলে Bhoot Club ওয়েবসাইটে আপনার সাথে ঘটে থাকা কিংবা আপনার আশে পাশে কারো সাথে ঘটে থাকা ভৌতিক ঘটনা গুলো আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। ইমেইলঃ bhootclubbhoot@gmail.com

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা


( ঘটনাটি আপনাদের কেমন লাগলো আমাদের  কমেন্ট করে জানান। আর বেশি বেশি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিন। আপনাদের করা কমেন্ট, শেয়ার আমাদের পরবর্তী গল্প প্রকাশে অনুপ্রেরণা দেবে,,, সবাইকে ধন্যবাদ। )

ভুতের গল্প সত্য ঘটনা



আরো পড়ুনঃ- মাদ্রাসা ছাত্রের ভয়ংকর ভুতের গল্প সত্য ঘটনা |২০২২|

Post a Comment

Previous Post Next Post